Header Ads

Header ADS

গুমের রানী আজ কোথায়?


বাংলাদেশের রাজনীতিতে একসময় যাঁর নাম উচ্চারণ করলেই ভয়ের সঞ্চার হতো, যিনি গুম, খুন, মামলা ও দমননীতির প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন— আজ তিনিই যেন ইতিহাসের অন্ধকারে হারিয়ে গেছেন। সমালোচকেরা তাই ব্যঙ্গ করে বলছেন, “গুমের রানী এখন নিজেই গুম।”

🔹 এক সময়ের সর্বময় ক্ষমতা

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা— সবকিছু ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে।
প্রতিবাদী কণ্ঠ, বিরোধী রাজনীতি বা মুক্ত মতপ্রকাশ— কিছুই নিরাপদ ছিল না।
“নিখোঁজ”, “অপহৃত” বা “অজ্ঞাত পরিচয়ে গুম”— এই শব্দগুলো যেন রোজকার সংবাদে পরিণত হয়েছিল।
মানবাধিকার সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে শত শত রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গিয়েছিলেন, যাদের অনেকের খোঁজ আজও মেলেনি।

🔹 ভয়ের রাজনীতি থেকে আত্মগোপনে

যিনি একসময় এই ভয়ের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এখন তিনিই নিস্তব্ধ।
কোথায় আছেন, কেমন আছেন, কারও কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই।
বিদেশি সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— সর্বত্র একই প্রশ্ন,

“গুমের রানী এখন কোথায়?”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইতিহাসের চক্র ঘুরে গেছে।
যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তিনি অন্যদের নীরব করেছিলেন, আজ সেই যন্ত্রই তাঁর বিরুদ্ধে নীরবতা সৃষ্টি করেছে।

🔹 নীরবতার ভেতর প্রতিশোধের প্রতিধ্বনি

দেশের মানুষ বলছে, এটি ন্যায়বিচারের সূচনা নয়, বরং ইতিহাসের প্রতিশোধ।
যে পরিবারগুলো বছরের পর বছর ধরে তাদের প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষা করেছে, তাদের জন্য এই নীরবতা একপ্রকার প্রতীকী উত্তর।
তারা হয়তো ভাবছে— “আজ বুঝতে পারছেন গুমের বেদনা কেমন।”

🔹 রাজনীতি বদলেছে, মনোভাবও

নতুন প্রজন্ম এখন প্রশ্ন করতে শিখেছে।
তারা জানে, রাষ্ট্রের শক্তি কখনোই ব্যক্তির সম্পত্তি নয়।
যে সময় ভয়কে ব্যবহার করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই ভয় আজ উল্টো ঘুরে এসেছে ক্ষমতার আসনে বসা মানুষদের দিকেই।

🔹 ইতিহাসের শেষ শব্দ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে— অন্যায়ের স্থায়িত্ব নেই।
যে গুমের সংস্কৃতি একসময় রাষ্ট্রের হাতিয়ার ছিল, আজ সেই সংস্কৃতিই এক রাজনীতিককে ইতিহাস থেকে গুম করে দিয়েছে।
এ যেন ইতিহাসের সবচেয়ে নীরব কিন্তু গভীর প্রতিশোধ।

No comments

Powered by Blogger.